“আমি প্রবাসী” অ্যাপে প্রবাসী কর্মীদের জন্য থাকছে যেসব সুবিধা

প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২১

বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘আমি প্রবাসী (Ami Probashi)’ অ্যাপ ভিত্তিক সেবা। যেখানে গ্রাহকরা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর কিংবা ইমেইল আইডি দিয়ে নিবন্ধন করার মধ্য দিয়ে সেবা নিতে পারবেন।
সম্প্রতি মুজিববর্ষের একটি উদ্যোগ হিসেবে এ অ্যাপটি চালু করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আর এটি নির্মিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও একটি বেসরকারি অ্যাপস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে।

অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া 
শুরুতে গ্রাহককে প্লে স্টোর থেকে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর চালু করে নির্বাচন করতে হবে ভাষা। মোবাইল নম্বর কিংবা ইমেইল আইডি উল্লেখ করা মাত্রই মোবাইলে একটি কোড আসবে। সেটি অ্যাপে প্রবেশ করানোর পর নির্বাচন করতে হবে কমপক্ষে ৩টি দেশ। মধ্যপ্রাচ্যসহ ২৩টি দেশের কথা সেখানে উল্লেখ করা থাকলেও ‘অন্যান্য দেশসমূহ’ নামের সেকশনে প্রবেশ করলে পাওয়া যাবে বিভিন্ন দেশের তালিকা।
পরের স্টেপে আসবে কোন বিষয়ে আপনার কারিগরি দক্ষতা আছে। এখানে শ্রমিক, ক্লিনার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, ড্রাইভার, সেফ, কন্সট্রাকশন ওয়ার্কারসহ আরও কতোগুলো অপশন আছে। যিনি যে কাজে দক্ষ পরের ধাপে সেটা গ্রাহক নিজেই নির্বাচন করে যেতে পারবেন। অবশ্য এখানে লিঙ্গ উল্লেখ করতে হবে। তারপর বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে মূল অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে।

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজে নিবন্ধন করতে অ্যাপের মাধ্যমে ‘আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন’ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। সেখানে প্রবেশ করলে নাম, পাসপোর্টের নম্বর, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং জন্মস্থান উল্লেখ করতে হবে। পাসপোর্টের তথ্যের পর ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগের তথ্য, নমিনির তথ্য, জরুরি যোগাযোগের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ এবং ভাষাগত যোগ্যতার তথ্য দিতে হবে।  বিএমইটি কার্ড ইস্যু করা হবে এবং সেটার তথ্য সম্বলিত কিউআর কোড অ্যাপে পাওয়া যাবে আবেদন প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর।

অন্যান্য সুবিধা
‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া, চাকরি খোঁজাসহ আবেদনের অগ্রগতি এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কী কী করতে হবে তাও জানা যাবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না করে কিংবা এর মাধ্যমে বিএমইটি ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত না হলে অন্য সেবা পাওয়ার সুযোগ নেই।
এছাড়া প্রবাসী কর্মীদের জন্য নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস, রিক্রুটিং এজেন্সি, জেলা জনশক্তি অফিস, মেডিক্যাল সেন্টার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ (টিটিসি) জিপিএস-এর মাধ্যমে দেখা যাবে। নির্দিষ্ট অফিসের ঠিকানায় কিংবা নামে ক্লিক করলে ম্যাপে সেটার অবস্থানও দেখা যাবে। তাছাড়া বৈধভাবে বিদেশ যাত্রায় যেসকল ধাপ আছে তার একটি চেকলিস্টও অ্যাপে সংযুক্ত করা রয়েছে।
‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপে যেসব দেশে কর্মীরা সচরাচর যায় সেসব দেশে যাওয়ার নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আনুমানিক খরচ কতো সেটারও উল্লেখ আছে। তাছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে জানানো যাবে অভিযোগও। পাশাপাশি নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্টের কপি, চাকরির অনুমতিপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করে সংরক্ষণ করা যাবে অ্যাপটিতে। কোথাও কোনও সমস্যায় পড়লে কোন দেশে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে সেটার বিস্তারিত তথ্য ও ইমেইল ঠিকানাও পাওয়া যাবে এই আমি প্রবাসী অ্যাপে।

সময় নিউজটিভি