সিলেটে মাসব্যাপী মেলা শুরু

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয় মেলা। সোমবার (৮ মার্চ) দুপুর ১টায় সিলেট নগরীর শাহী  ঈদগাহস্থ সদর উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি স্বর্ণলতা রায়ের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ বেতারের ঘোষক জান্নাতুল নাজনীন আশার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেছেন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। নারী-পুরুষ কাউকেই পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। সকলকেই একসঙ্গেই হাঁটতে হবে। নারীরা বিশে^র বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন,  এদের মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে। বিদেশ থেকে দু’জন ফেরত এলেও আরো ৯৮ জন  ঠিকই উপার্জন করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। তবে আমরা চাই নারীরা যাতে  দালালদের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে কষ্ট না করেন। দেশেই ৭০টি টিটিসি রয়েছে যাদের সাহায্যে নারী দক্ষতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে কোনো ধরণের সমস্যা ছাড়া ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারেন। নারীদের পিছিয়ে রাখা একটি সমাজবিরোধী কাজ। বিশে^র প্রায় ৫০ শতাংশই নারী। তাদেরকে রেখে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট বিভগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এনডিসি বলেন, বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জরুরী। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও এই কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। নারীদেরকেও সার্বিক  কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে প্রচলিত ধ্যাণ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, নারীরা যাতে এগিয়ে যেতে পারে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঘরে বাইরের বিষয় না দুটি হাতকেই কাজে লাগাতে হবে। প্রচলিত কুসংস্কার ও বাঁধাকে দূর করে সমাধাণ করে নারীদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। সকলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, নারীদের ক্ষমতা ও নারীদের বঙ্গবন্ধু গুরুত্ব দিতেন। নারীদের  যে সম্পদ থাকতে হবে সেই বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিতেন। বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়নে আন্তরিক। নারীদের নিয়ে সমাজে যেসব কুশংস্কার চলমান আছে সেই হীনমন্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারী উদোক্তাদের সফলতার কামনা করি।
স্বাগত বক্তব্যে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি স্বর্ণলতা রায় বলেন, আমরা সিলেটে এই প্রথম এমন আয়োজন করতে পেরে আবেগে উদ্বেলিত। সকলের ভরসা নিয়েই আমাদের আজকের এই শুরু। নারী উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা নিয়েই আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো।
উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন সিলেট-সুনামগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ অ্যাডভোকেট শামিমা আক্তার খানম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের  সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট  মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ এর সভাপতি আফজাল রশিদ চৌধুরী, বরিশাল উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি ও শেরপুর উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিজা মাসুদ।
উদ্বোধীন অনুষ্ঠানের শুরুতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এছাড়া উদ্যোক্তার তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রধান উদ্যোক্তা মিনারা বেগম, নির্ভীক উদ্যোক্তা ফারমিস আক্তার ও নবীন উদ্যোক্তা নুজাহাত ইসলাম রিয়াকেও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।