অপেক্ষার দিন শেষ, আসছে সিলেট ছাত্রলীগ কমিটি

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অবশেষে আলোর মুখ দেখছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে নেই সিলেট ছাত্রলীগের কোন কমিটি। নেতৃত্বহীন হ-য-ব-র-ল ছাত্রলীগকে দেখা যায়নি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কোন কর্মসূচীতে। কমিটি না থাকার কারনে নানা সময় অনেক বিতর্কও পিছু নেয় ছাত্রলীগের। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে অবশেষে আশায় বুক বেঁধেছেন সিলেটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা শাখার কমিটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা সম্মেলন করতে চায়। এ জন্য শিগগিরই সাংগঠনিকভাবে সমন্বয় টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি পূরণ করা হবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য পদগুলোও। সাংগঠনিক অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এ সম্মেলন করবে ছাত্রলীগ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এই তিন শীর্ষ নেতা ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বশীল নেতারা বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যেসব জেলায় দীর্ঘদিন থেকে সম্মেলন হয়নি সেসব জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা বিধি প্রতিপালন করে সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সঙ্গে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করার গাইডলাইন দিয়েছেন দায়িত্বশীল নেতারা। গঠনতন্ত্রে না থাকলে সংগঠনের অতীত ঐতিহ্যর ধারাবাহিকতায় জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক সমন্বয় টিম গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, মেয়াদোর্ত্তীর্ণ জেলা শাখার প্রতিটি ইউনিটে একটি করে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমন্বয় টিম গঠন শিগগিরই গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এসব টিমে কেন্দ্রীয় নেতাদের দুই তিন জন করে নেতারা দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ৩২ জন নেতাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সব শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব পদে নতুনদের অন্তর্ভুক্তি করে শীঘ্রই পূরণ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সব পদ পূরণ করে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে।

এ সব শূন্য পদে কারা অগ্রাধিকার পাবে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘যারা দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে, পদবঞ্চিত হয়েও সংগঠনের কাজে সময় দিচ্ছে, যাদের সাংগঠনিকভাবে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, গ্রহণযোগ্যতা ও ত্যাগ রয়েছে তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে করোনাকালে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিগুলোর সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করা হয়েছে বলেও জানান জয়।