তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে দৃষ্টান্ত গড়লেন ভিপি মনির

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

আনোয়ার বারী পিন্টু : তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্থান যে কারো জন্য এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাংগঠনিকভাবে বেশীরভাগ রাজনৈতিক দলগুলোতে গঠনতন্ত্রের চর্চা না থাকা এর অন্যতম কারণ। তবে এর মধ্যেও নিজের সাংগঠনিক প্রতিভা ও প্রবল সাধনার মাধ্যমে কেউ কেউ দৃষ্টান্ত গড়তে স্বক্ষম হন। বর্তমান পরিবর্তিত রাজনীতির এই সময়ে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলের কেন্দ্রে পৌঁছে অনন্য এক দৃষ্টান্ত গড়লেন মহিউদ্দিন ভিপি মনির।

সদ্য ঘোষিত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তার রাজনৈতিক সতীর্থদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘একজন পরিচ্ছন্ন, জ্ঞান নির্ভর রাজনীতির মুখচ্ছবি তিনি। কর্মীদের কাছে অসাধারণ এক সমাদৃত রাজনীতিক ভিপি মনির।
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার নদনা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই রাজনীতির হাতেখড়ি তার। দেশী বিদেশী রাজনীতিতে চোখ রাখতেন তখন থেকেই। দূর্লভ সব বই পড়ে জ্ঞান পিপাসা মিটাতেন। জড়ান জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে।
স্মৃতিচারন করতে গিয়ে ভিপি মনির জানান, ‘নিজ এলাকায় বাংলাবাজারে ১৯৮১ সালে চতুর্থ শ্রেণীতে থাকাকালে জিয়াউর রহমান রামগঞ্জ থেকে সোনাইমুড়ী যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাই। সেই স্মৃতি আজো উজ্বল হয়ে আছে আমার কাছে।’
জানা যায়, সোনাইমুড়ি সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নেতৃত্ব দেন। এরপর সোনাইমুড়ী কলেজ ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন। এসময় তার নেতৃত্বে সমমনাদের নিয়ে পুরো উপজেলায় দলের ভীত মজবুত করতে কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থী বরকতউল্যা বুলুর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন। সোনাইমুড়ী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে নিজেকে আরো বেশী সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৯৩-৯৪ সেশনে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে ভিপি নির্বাচিত হন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভোটে ভিপি নির্বাচিত হওয়া ছিলো ছাত্রনেতা হিসেবে এক বিরাট স্বীকৃতি এবং আমার কর্মের মূল্যায়ন। ’
এরপর ছাত্ররাজনীতির পথচলায় তিনি সামনে এগিয়ে যান দৃড় পদক্ষেপে। এসময় নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের মুসলিম বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে নিজস্ব গতি নিয়ে তিনি ঢাকামূখী রাজনীতি শুরু করেন। ৯৬ সালের পর রুহুল কবীর রিজভী কে সভাপতি ও ফজলুল হক মিলনকে সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষনা করা হয়। ভিপি মনির এ কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। এসময় রাজপথে দলীয় কর্মসূচীতে তার সক্রিয় ভূমিকা দলের হাইকমান্ডের বিশেষ নজরে আসে। এরপর হাবিবউন নবী সোহেল ও মীর শরাফত আলী সপুর নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। তখন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক হয়ে তিনি দেশব্যাপী দলের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।
ভিপি মনির রাজনীতির মাঠে একজন স্রোতা প্রিয় বক্তা। তার জ্ঞানগর্ব কন্ঠের কথা শুনতে মানুষ অপেক্ষা থাকে অধির আগ্রহে। তাছাড়া কর্মীবান্ধব একজন নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন সবার কাছে প্রিয়। কর্মীদের সুখে দুখে পাশে থাকতে ভালোবাসেন।
এ বিষয়ে কথা হলে ভিপি মনির এ প্রতিবেদককে জানান, ‘একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়েই রাজনীতিতে পা রাখি। মানুষের সুখে দুখে পাশে থাকার প্রবল ইচ্ছা ছোটবয়স থেকেই নিজের ভেতরে লালন করে আসছি। রাজনীতির মাধ্যমে এ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চাই।’
ভবিষ্যত স্বপ্ন কি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে ভবিষ্যত বলতে কিছুই নেই। মানুষের প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে যা করার তাই করতে হয় একজন রাজনীতিকের। পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়াই হচ্ছে সঠিক কাজ। তাই কখন কি হবে তা বলা মুশকিল। তবে মানুষের চাওয়া অনুযায়ী আগামীতে সিদ্ধান্ত নেবো। মানুষের সেবা করার জন্য যা প্রয়োজন তাই করবো।
তথ্য সূত্র: দৈনিক বাংলা ডটকম