সিলেটে ধর্ষণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে ভিন্নধর্মী এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল সিলেটের শিক্ষার্থীরা। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদী কণ্ঠগুলো মিলিত হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে।

মঙ্গলবার ( ১৩ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় শুরু হয় মূল কর্মসূচিগুলো। IT’S HIGH TIME” শিরোনামে সাধারন শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিটি গণসঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয়।

“চিৎকার করো মেয়ে” গানটি দ্ব্যার্থকন্ঠে গাওয়ার সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদমুখর আন্দোলনটিতে আলাদা এক মাত্রা যোগ হয়।

পরে ধারাবাহিকভাবে কবিতা আবৃত্তির পরপরই শুরু হয় প্লানচেট বিতর্কের পর্ব। প্লানচেট বিতর্কে ধর্ষিতা,ধর্ষক,ধর্ষিতার বাবা এবং ফুলন দেবীর প্রতীকী আত্মার পরিবেশনা ছিলো মূখ্য বিষয়। বিতর্কে তারা সেইসব অগোচরে থেকে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষের আত্মার আক্ষেপ। যা প্রতিবাদী কন্ঠে সাধারণ মানুষরাও চিৎকার করে বলতে চায়,অথচ তাদের কণ্ঠ বেড়াজালে বাঁধা পড়ে। কিন্তু প্রতিবাদী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস বাঁধা মানে নি কোন কিছুতেই।আর এসব দৃশ্যই পুনঃপুনঃ ভাবে ফুটে উঠেছিল শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমে।

কর্মসূচির অন্যতম ধ্রুপদি পরিবেশনা ছিলো পথনাটক। নাটকটিতে তুলে ধরা হয় একজন নারীর শিশুকাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লাঞ্চনা সহ্য করার মর্মান্তিক ইতিহাস।

এক ছোট্ট মেয়ের বাইরে খেলতে না যেতে পারার আকুতি থেকে আত্মীয়ের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার গল্প উঠে আসে। উঠে আসে রক্ষণশীল পরিবারের মায়েরা কি করে তাদের কন্যা সন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলো মুখ বুজে সহ্য করেন,সহ্য করতে শেখান।

একটা ছোট্ট শিশুর কিশোর বেলার অনিরাপদ জীবন আর সে জীবনের সাথে মানিয়ে চলার অসহনীয় যন্ত্রনার কথাও নাটকে উঠে আসে। আরো দেখানো হয়,কীভাবে একটি ছোট্ট শিশুর ছেলেবেলা কাটে ছেলে-মেয়ের পার্থক্য বুঝতে বুঝতে। মেয়েদের কে কোনঠাসা করে গৃহবন্দী করে পুরুষ সমাজ কীভাবে নিজেদের পুরুষের প্রমাণ দেয় তাও উঠে আসে নাটকে।

নাটকে আলোড়ন তুলে, কীভাবে একটি ছেলেকে মেয়েদের অসম্মান করতে গেলে পরিবার থেকে বাধা দেয়া হয় না। কিশোরীর ভাইটিও যে দিনে দিনে নিপীড়কে পরিনত হয়,পরিনত যে করা হয় তাও সমাজে একটি কড়া বার্তা দেয়।
বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে নারীর যন্ত্রনা,অসহায়ত্বের করুন চিত্র ফুঁটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে এতসব লাঞ্চনা সহ্য করে নিপীড়িতা নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজন নিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, “ক্রমাগত নারীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠা একটি সমাজে এখনই পরিবর্তনের আওয়াজ না তুললে মধ্যযুগের বর্বর সমাজেই আবার আমাদের ফিরে যেতে হবে। তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজের মানুষের কাছে এই সচেতনতাটুকু যেন আমরা তুলে ধরতে পারি”
সবশেষে একটি মশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রদক্ষীন করে।সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্লোগানে মুখরিত হয় চায়ের দেশের কালো সন্ধাটি। যাদের তীব্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয় ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিটাই