গোয়াবাড়ি: সিলেটের অনন্য দর্শনীয় স্থান

প্রকাশিত: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০

মোহাম্মদ আক্তার

যতদূর চোখ যায়  সবুজের হাতছানি। সারি সারি টিলা, স্তরে স্তরে  সাজানো চা বাগানের সবুজের অপরুপ সৌন্দর্য  যেন সবাইকে আকৃষ্ট করে। ওয়াক ওয়ের নিচ স্টিলের লাল-হলুদের পাটাতন দুই পাশে রেলিং মাঝে মাঝে বসার জায়গা এ সবকিছুর সমন্বয়ে নির্মিত ওয়াক ওয়েটির দিকে থাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। ওয়াক ওয়ের নিচ দিয়ে নদীর স্রোতের মত বয়ে যাচ্ছে ছড়ার পানি ওয়াক ওয়ে টিকে মনে হয় যেন ঝুলন্ত ব্রিজ। প্রতিদিন ভিড় জমান ভ্রমণ পিপাসু হাজারো দর্শনার্থীরা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায় ঘড়ির কাঁটা জানান দেয় এবার ফেরার পালা। সিলেটের তারাপুর চা-বাগান সংলগ্ন গোয়াবাড়ি এলাকায় কালীবাড়ি ছড়ায় নির্মিত ওয়াক ওয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের আড্ডাস্থল। স্থানীয়রা ভাবছিলেন বাগান ও ব্যক্তি মালিকদের দখলে ছড়াটি কোনো একসময় বিলীন হয়ে যাবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনায় ময়লার স্তুপ হয়ে যাবে সিলেটের অনন্য দর্শনীয় স্থান তা হয়তো শুধু এলাকাবাসী নয় কেউই ভাবেননি।

নির্মাণাধীন ওয়াক ওয়েটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুর চা বাগান সংলগ্ন গুয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। গোয়াবাড়ি এলাকা থেকে ছড়াটি নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শেষ পর্যন্ত মিলিত হয়েছে সুরমা নদীতে। করেরপাড়া পয়েন্ট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ছড়ার উপর ওয়াক ওয়েটি দৃশ্যমান।

সিলেট সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, চা-বাগানের  টিলা থেকে আসা নয়টি ছড়া এবং তিনটি খাল নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সুরমা নদীতে মিশেছে। এই এগারোটি ছড়া-খালই নগরকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক সৃষ্ট ছড়াগুলোকে সংরক্ষণ করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে রিটেইনিং ওয়াল, ওয়াকওয়ে নির্মাণে সিসিক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে চলমান রয়েছে। আর এই প্রকল্পের অন্যতম একটি হচ্ছে দখলমুক্ত ছড়া ও খালের তীর সংরক্ষণ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ।

ওয়াক ওয়েতে দর্শনার্থীরা বার বার ছুটে যান চির সবুজের অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে। বর্ষাকাল হওয়াতে চায়ের পাতা সতেজ ও প্রানবন্ত এ যেন সবুজের অপরুপ পাহাড়ি আবরণে নতুন সাজে সেজেছে। যেদিকে চোখ যায় উঁচু নিচু টিলা, টিলার বুকজুড়ে চা বাগানের
চারদিকে নজরকাড়া সৌন্দর্য, শত প্রজাতির গাছ দাড়িয়ে আছে চা বাগানের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখলে চোখ ফেরানো যায় না।
শহরের যান্ত্রিক জীবন, অফিস  বা ব্যবসায়ীক কাজের ব্যস্ততা ও  করোনা ভাইরাস সংক্রমণের রোধে চার দেয়ালের বন্দিজীবন  থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজেকে মেলে ধরেন ভ্রমণ প্রেমী মানুষেরা। সৌন্দর্য মণ্ডিত ওয়াক ওয়েতে দাড়িয়ে সবুজ চা বাগান ও ওয়াকওয়ের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়ার পানি এ যেন হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে যায়, মনে হয় যেন অন্য এক পৃথিবীতে অবস্থান করছি যা লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করা খুবই   দুস্কর।

ওয়াক ওয়ের দর্শনার্থীদের পদচারণায় গুয়াবাড়ি বাজারের দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে যায়। ওয়াক ওয়েকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে বিভিন্ন খাবারের দোকান ও হরেক রকম খেলনার দোকান। অনেকের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। কথা হয় ওয়াক ওয়েতে ছবি তোলেন দুইজন  ফটোগ্রাফারের সাথে নাম আব্দুর রহমান ও আব্দুর রব তারা ওয়াক ওয়ের পাশে জাহাঙ্গীর নগর এলাকার বাসিন্দা। তারা ছবি তুলে ভালোই রোজগার করছেন। আব্দুর রব বলেন, বিছনাকান্দিতে আগে ছিলাম ওখানে ফটোগ্রাফারের কাজ করতাম এখন পরিবারের সাথে থাকতে পারছি আয়ও ভালো হচ্ছে খুবই ভালো লাগছে, প্রতি ছবিতে পাঁচ টাকা করে নেই। এরকম আরও অনেক ফটোগ্রাফার আছেন যারা ছবি তুলছেন। বেকার ছিলেন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াক ওয়ের পাশে গুয়াবাড়ি বাজারের সংলগ্ন ছোট বাচ্চাদের জন্য দুই-তিন রকমের রাইডার যা বাচ্চারা চড়ে খুবই আনন্দিত ও উৎফুল্ল হয়। স্থানীয় ছোট বাচ্চাদের দূরন্তপনা ও খেলাধুলায় শহুরে ও গ্রামীণ জীবনের মধ্যে অন্যরকম মিল খোঁজে পাওয়া যায়।

ওয়াকওয়ে টির কাজ সত্তর শতাংশ বাকী আছে তবুও হাটঁতে হাটঁতে গুয়াবাড়ি বাজার থেকে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে  করেরপাড়া পয়েন্টের দিকে যেতে থাকলাম একসময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলাম দেখলাম ওয়াক ওয়েটি করেরপাড়া পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছায় নি তখন  চোখে পড়লো সামনের রাস্তার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ছড়া লোহার পাটাতন ফেলা রাস্তার দক্ষিণ দিকে  যাতে লোকজন এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করতে পারে তাৎক্ষণিক মনে পড়লো পূর্ব দিকেইতো রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেখানে এই রাস্তা দিয়ে অনেক ইমার্জেন্সি রোগী নিয়ে এলাকাবাসী যাতায়াত করেন। ভাঙা রাস্তা ফাটল ধরে  আছে মনে হয় যেন রাস্তা ভেঙে প্রশস্ত হচ্ছে আর ছড়ার সাথে মিশে যাচ্ছে।
গুয়াবাড়ি বাজার হয়ে ঘুরে এলাম করেরপাড়া পয়েন্টে কথা হলো স্থানীয় একজন গ্রোসারি শপের প্রোপাইটরের সাথে, জানতে চাইলাম ভাঙা কালভার্টের কথা তিনি বললেন, প্রায় আট থেকে নয় মাস হয় কালভার্ট ভাঙা হয়েছে প্রশস্ত করার জন্য এখনও নতুন কালভার্ট তৈরির কাজ শুরু হয়নি, এতদিন বাঁশের সাঁকো ছিল লোকজন পারাপারের জন্য এখন লোহার পাটাতন বসানো হয়েছে শুধু মানুষজন পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া করতে পারে ইমার্জেন্সি রোগী নিয়ে এলাকাবাসী সিএনজি বা এম্বুলেন্সে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেলে যেতে পারেন না। তখন গুয়াবাড়ি বাজার বা মদিনা মার্কেট হয়ে ঘুরে যেতে হয়।