‘প্রতি বছর ঈদযাত্রা মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়’

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৯

ঈদের সময় যানজটের কারণে যাত্রীবাহী বাসগুলো কাঙ্ক্ষিত ট্রিপ দিতে না পেরে, তা পুষিয়ে নিতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। এতে দুর্ঘটনা হয় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদ যাত্রা মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা না গেলে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়িতে নিম্ন আয়ের মানুষের যাতায়াত কোনোভাবে ঠেকান যাবে না’।

‘দেশব্যাপী সকল বাস, রেল, লঞ্চ ও অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন কোম্পানিগুলোর ঈদ যাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য প্রতিরোধে বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার ও জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জরুরি’।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ চাই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ দাবি করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ট্রেনের টিকিট নিয়ে বলেন, জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছে না, কাউন্টার থেকে বলা হয় টিকিট শেষ। কিন্তু টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখা যাচ্ছে ২৩ হাজার টিকিট এখনো অবিক্রীত। অন্যদিকে নতুন সংযোজন মোবাইলভিত্তিক অ্যাপসেও টিকিট কাটতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে নাগরিকেরা। এই জবাবদিহি কার কাছে পাওয়া যাবে?

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালে যদ্দিন বলেন, সরকারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আগামী পাঁচ বছরে কী পরিমাণ গাড়ি দেশে চলবে। সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। নতুন একটি ঢাকার জন্য সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকায় যেন আর একটাও নতুন বিল্ডিং না উঠতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও অংশ নেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, বিআরটিএ’র রোড সেফটি পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানি এবং গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।