মাওলানা খাদিমানীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান চরমোনাই অনুসারীদের

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট:
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম সম্পর্কে ‘মিথ্যাচার’ করার অভিযোগে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। চরমোনাইপীরের অনুসারী একশো একজন প্রবাসী তরুণ আলেম এক বিবৃতিতে আঙ্গুরা মুহাম্মাদপুর মাদরাসা সিলেটের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ফয়জুল হাসান খাদিমানীকে পীরের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের ভিতর খাদিমানী হুজুরকে চরমোনাই পীর সাহেবের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট আঙ্গুরা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ফয়জুল হাসান খাদিমানী গত ২৮ মার্চ একটি মাদ্রাসায় তারবিয়াতি প্রোগ্রামে পীর সাহেব চরমোনাইর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। দেশের স্বনামধন্য পীর, বিশিষ্ট আলেমেদীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম দেশের একজন সম্মানিত ব্যাক্তি এবং দীনের দাঈ। তার বিরুদ্ধে এধরনের মথ্যাচার মেনে নেওয়া যায় না।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ ইসলামী দলের আমীর, গত ৩০ ডিসেম্বর-১৮ এর নির্বাচনে তাঁর দল সারাদেশে ৩০০ আসনে এমপি প্রার্থী দিয়ে ইসলামের পক্ষে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর কোন ইসলামী দল এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে পারেননি। তিনি কোটি কোটি ইসলাম প্রিয় জনগণের আধ্যাত্মিক রাহবার। সারাদেশে তাঁর ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তিনি দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ। তিনি টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে বিশাল লংমার্চ এর সফল নেতা।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনাব খাদিমানী সাহেব, রাজনৈতিক শিষ্টাচারিতা লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত চরিত্র হননমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করেছেন। চরমোনাই পীর সাহেবদের ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর মিথ্যাচারের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাঁর নিকট ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা ১০১ জন তরুণ প্রবাসী আলেমরা আশা করব, জনাব খাদিমানী সাহেব আগামী এক সপ্তাহের ভিতর চরমোনাই পীর সাহেবের কাছে মিথ্যাচারের ক্ষমা চেয়ে নিবেন।

বিবৃতিতে তরুণ আলেমগণ বলেন, আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, খাদিমানী সাহেবের এমন জঘন্য মিথ্যাচার ও অশালীন বক্তব্যের পরেও তার সংগঠন এখনো সাংগঠনিকভাবে কোন ব্যবস্থা বা বিবৃতি দেননি। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, খাদিমানী সাহেবের এই মিথ্যাচারের সাথে তার দলও জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন-
০১- শায়েখ মিজানুর রহমান, সৌদি আরব।
০২- মুফতী আলতাফুর রহমান, সৌদি আরব।
০৩- মাওলানা ওসমান গনী রাসেল, সৌদি আরব।
০৪- মাওলানা আবু তাহের, সৌদি আরব।
০৫- মাওলানা. সৈয়দ হাবিব উল্লাহ বেলালী, সৌদি আরব।
০৬- মাওলানা মীর আহমাদ মিরু, ওমান।
০৭- মাওলানা মিজানুর রহমান, ওমান।
০৮- মাওলানা সাইফুল ইসলাম, ওমান।
০৯- মাওলানা আজিজ উল্লাহ, আরব আমিরাত।
১০- মাওলানা আবুল কাশেম, আরব আমিরাত।
১১- মাওলানা নুরুল্লাহ মিয়াজী, কাতার।
১২- মাওলানা হাফেজ তোহা, কাতার।
১৩- শায়েখ আবদুর রহমান জামী, কুয়েত।
১৪- শায়েখ আইউব ইউনুস IPC কুয়েত।
১৫- মাওলানা সৈয়দ জামাল উদ্দীন, কুয়েত।
১৬- মাও.কাজী শফী আবেদিন, কুয়েত।
১৭- মুফতী কামাল উদ্দিন, সাউথ আফ্রিকা।
১৮- মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, সাউথ আফ্রিকা।
১৯- মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ফরিদী, সাউথ আফ্রিকা।
২০- মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ভুঞা, ইটালী।
২১- মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, বাহরাইন।
২২- শায়েখ আমীর আলী সাতবাড়ী, কাতার।
২৩- মাওলানা রবিউল ইসলাম জিহাদী, মক্কা, সহ ১০১ জন প্রবাসী তরুণ আলেমবৃন্দ।