সৌম্য-মাহমুদুল্লাহ’র জোড়া সেঞ্চুরির পরও ইনিংস ব্যবধানে হ্যামিল্টন টেস্ট হারলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৯

সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জোড়া সেঞ্চুরির পরও ইনিংস ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের কাছে হ্যামিল্টন টেস্ট হারলো সফরকারী বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ৫২ রানে হারে টাইগাররা। এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মত নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।
৪৮১ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান করেছিলো টাইগাররা। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৩০৭ রানে পিছিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে আরও ৩০৭ রান করতে হলো সফরকারীদের। ঐসময় সৌম্য সরকার ৩৯ ও মাহমুদুুল্লাহ ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চতুর্থ দিন সকাল থেকে বেশ সর্তক ছিলেন সৌম্য ও মাহমুদুল্লাহ। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে রানের চাকা ভালোই ঘুড়িয়েছেন তারা। মারুমুখী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন সৌম্য। তাই প্রথম সেশনেই টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। ইনিংসের ৫৯তম ওভারের তৃতীয় বলে নিউজিল্যান্ডের পেসার টিম সাউদির বলে ১ রান নিয়ে ৯৪তম বলেই সেঞ্চুরির স্বাদ নেন সৌম্য। তাই বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে দ্রুত সেঞ্চুরিতে তামিম ইকবালের পাশে বসলেন তিনি। ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। ১৩তম ম্যাচে প্রথমবারের মত তিন অংকে পা দিলেন সৌম্য।
সৌম্যর সেঞ্চুরি ও মাহমুদুুল্লাহ’র ৬৫ রানের সুবাদে ৪ উইকেটে ৩১০ রান নিয়ে মধাহ্ন-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দু’জনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় লড়াইয়ে ফিরে টাইগাররা। বিরতির থেকে ফিরেও নিজের ব্যাটিং নৈপুন্য প্রদর্শন করে দেড়শ রানের দোড়গোড়ায় পৌছে যান সৌম্য। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৪৯ রানে থেমে যান সৌম্য। নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হন তিনি। ২১টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১৭১ বলে ২৫৫ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৪৯ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন সৌম্য। ফলে মাহমুদুল্লাহ’র সাথে পঞ্চম উইকেটে ২৩৫ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে পঞ্চম উইকেটে ৩৫৯ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।
সৌম্য ফিরে যাবার ৪৪ ম্যাচে টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মাহমুদুল্লাহ। তার সেঞ্চুরির পর-পরই থেমে যান উইকেটরক্ষক লিটন দাস। মাত্র ১ রান করেন তিনি। বোল্টের বলে বোল্ড হন লিটন।
লিটন ফিরে যাবার পরের ওভারেই বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজও। তাই ম্যাচ হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায় বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু অন্যপ্রান্তে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন মাহমুদুুল্লাহ। ওয়াগনারের এক ওভারে ১৬ রান নিয়ে দলকে ইনিংস হার থেকে রক্ষার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। কিন্তু দলীয় ৪২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মাহমুদুল্লাহ। নিউজিল্যান্ডের ডান-হাতি পেসার টিম সাউদির বলে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ২১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২২৯ বলে ৩১৫ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৪৬ রান করেন মাহমুদুল্লাহ। এটিই তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস।
১০৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অধিনায়ক ফিরে যাবার তিন বল পরই নিজেদের শেষ উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। ফলে ৪২৯ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। এতে আবারো নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ট্রেন্ট বোল্ট ১২৩ রানে ৫ উইকেট নেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মত পাঁচ উইকেট নিলেন বোল্ট। এছাড়া সাউদি ৩টি ও ওয়াগনার ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।
ওয়েলিংটনে আগামী ৮ মার্চ থেকে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৩৪/১০ ৫৯.২ ওভার (তামিম ১২৬, লিটন ২৯, সাদমান ২৪, ওয়াগনার ৫/৪৭)।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ৭১৫/৬ডি: ১৬৩ ওভার (উইলিয়ামসন ২০০*, লাথাম ১৬১, সৌম্য ২/৬৮)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস :
তামিম ইকবাল ক ওয়াটলিং ব সাউদি ৭৪
সাদমান ইসলাম ক বোল্ট ব ওয়াগনার ৩৭
মোমিনুল হক ক টেইলর ব বোল্ট ৮
মোহাম্মদ মিথুন ক উইলিয়ামসন ব বোল্ট ০
সৌম্য সরকার বোল্ড ব বোল্ট ১৪৯
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ক বোল্ট ব সাউদি ১৪৬
লিটন দাস বোল্ড ব বোল্ট ১
মেহেদি হাসান মিরাজ ক রাভাল ব ওয়াগনার ১
আবু জায়েদ বোল্ড ব বোল্ট ৩
খালেদ আহমেদ অপরাজিত ৪
এবাদত হোসেন ক ওয়াটলিং ব সাউদি ০
অতিরিক্ত (ও-৬) ৬
মোট (অলআউট, ১০৩ ওভার) ৪২৯
উইকেট পতন : ১/৮৮ (সাদমান ইসলাম), ২/১০০ (মোমিনুল), ৩/১১০ (মিথুন), ৪/১২৬ (তামিম), ৫/৩৬১ (সৌম্য), ৬/৩৭৯ (লিটন), ৭/৩৮০ (মিরাজ), ৮/৪১৩ (আবু জায়েদ), ৯/৪২৯ (মাহমুদুল্লাহ), ১০/৪২৯ (এবাদত)।
বোলিং :
ট্রেন্ট বোল্ট : ২৮-৩-১২৩-৫ (ও-৪), টিম সাউদি : ২৪-৪-৯৮-৩, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম : ১০-১-৩৩-০, নিল ওয়াগনার : ২৪-৪-১০৪-২ (ও-২), টড অ্যাস্টল : ১৫-৩-৫৮-০, উইলিয়ামসন : ২-০-১৩-০।
ফল : নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ৫২ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।