মুক্তিযুদ্ধ অপরিহার্য ছিল

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৯

বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল বারিক : আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের দেশ স্বাধীন । এ দেশের সার্বভৌমত্ব আছে, রয়েছে তার ভৌগলিক সীমানা। আছে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত। আছে বাক স্বাধীনতা, স্বাধীন অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনের এখতিয়ার ও অধিকার। নিজস্ব জাতীয় সংস্কৃতি,নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও বর্ষ গণনার রীতিনীতি। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে দেশ পরিচালনার সরকার পদ্ধতি। একটা জাতিসত্ত্বার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই আমাদের। তবে এগুলো কতটকু সমৃদ্ধ তা পর্যলোচনার দাবি রাখে বটে। এসব বিষয়গুলি যাদের নাই তারা যে কত মর্মযতনায় নিপীড়িত তা ভূক্তভোগীরাই টের পান। এসব বৈশিষ্ট্য অর্জন করা অনেক কঠিন। অগিনত ত্যাগের বিনিময়েই তা অর্জন করা সম্ভব হয়। আমরাও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমেই অর্জন করেছি। দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা যত
কঠিন তা রক্ষা করা আরো কঠিন। দেশের সকল নাগরিককেই এই চেতনাবোধ নিয়ে দেশেে
অতন্দ্র প্রহরীর মত দেশ প্রেমে সদা জাগ্রত থাকতে হয়। ১৯৭১ সনে আমাদের বাংলাদেশের
স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এর আগেও আমরা স্বাধীন বলে ভাবতাম। বৃটিশ চক্রান্তে ১৭৫৭
সালে আমাদের স্বাধীনতার বিলুপ্তি ঘটেছিল। প্রায় ২০০ বছর গোলামীর
পর বৃটিশ দুঃশাসন থেকে বেড়িয়ে আসার সুযোগ হল। এর মধ্যে বহু দ্বন্দ,কলহ, সংগ্রাম
সংঘাত,প্রানহানী ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। অবশেষে পুর্ববঙ্গ, পাঞ্জাব,উত্তর
পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ,সিন্ধু ও বেলুচিস্থান নিয়ে ১৯৪৭ সনের ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তান ও
১৫ই আগষ্ট ভারত বর্ষেও বাকী অংশ নিয়ে হিন্দুস্থান তথা ভারত রাষ্টের গোড়াপত্তন হয়।যা
বর্তমান পাক, ভারত,বাংলা উপমহাদেশর ভূখন্ডজুড়ে। যে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের টানে প্রায়
১৪শত মাইলের ব্যবধানের দুইটি পৃথক ভূখন্ড নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হল তা বছর না
ঘুরতেই বিভক্তির সুর বাঁজতে শুরু করল। রাষ্ট্র ভাষা নিয়ে শুরু দ্বন্দ কলহ এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ী
রূপ ধারন করল। এরই মধ্যে সামরিক জান্তাদের হিং¯্র ছোবল পকিস্তানকে ক্ষতবিক্ষত করেছে
বার বার। আর তার খেসারত পুর্বপাকিস্তানের উপরই বেশি পরেছে। পুর্ব পাকিস্তান তথা
বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ চরম বৈষম্যে নিপতিত হতে হয়েছে। নাগরিক অধিকার
আঞ্চলিক স্বার্থ ও অধিকারের ক্ষেত্রেও টানা পুরন দিন দিন মাথাচারা দিয়ে উঠতে
থাকে।এ হেন বৈষম্যের যাতাকল থেকে মুক্তি পেতে পুর্ব বাংলার মানুষ পাগলপ্রায় হয়ে
উঠল।পুর্ব পাকিস্তানের নেতৃ বৃন্দেও মধে মাওঃ আঃ হামিদ খাঁন ভাষানী ও স্বাধীন
বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পেশ করেন।(কাল
পঁচিশের আগে পরে) পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর
রহমান সায়ত্বশাসনের দাবি উত্থাপন করে ৬ দফা দাবি নামা পেশ করেন । তাঁর কর্মসূচী

যৌক্তিক ও গঠন মুলক হওয়ায় পুর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাভাষী এলাকা বর্তমান বাংলাদেশের
মানুষ ব্যপকভাবে সাড়া যোগাল।শুরু হল স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলন।স্বায়ত্বশাসনের মূলমন্ত্র
বঙ্গ বন্ধুর ৬ দফা ছিল নি¤œরূপঃ-
১. পাকিস্তান সত্যিকার অর্থে একটি
ফেডারেল রাষ্ট্র হবে।সরকার পদ্ধতি হবে পার্লামেন্টারী ধরনের এবং ফেডারেল ও ফেডারেশনের
ইউনিট গুলির আইন সভা ,জনসংখ্যা ভিত্তিক প্রত্যক্ষ ও সার্বজনিন নির্বাচনের মাধ্যমে
গঠিত হবে।
২. ফেডারেল সরকারের হাতে দেশ রক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় থাকবে। অন্যান্য
বিষয় ন্যাস্ত থাকবে ফেডারেশনের ইউনিট গুলির উপর।
৩. পাকিস্তানের দুই অংশের জন্যে পৃথক ও সহজ বিনিময় যোগ্য মুদ্রা থাকবে অথবা
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থাসহ দুই অঞ্চলের জন্যে একই মুদ্রা থাকবে।এতে আঞ্চলিক
ফেডারেল ব্যাংক থাকবে। এই ব্যাংক গুলু এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সম্পদ হস্তান্তর করবে।
৪. ট্যাক্স ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা ন্যস্ত হবে ফেডারেশনের অঙ্গরাষ্ট্রগুলুর উপর ।অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর
টেক্সেও একটা অংশ ফেডারেল সরকারকে দেয়া হবে তার আর্থিক প্রয়োজন পুরনের
জন্যে।করনীতির উপর অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর নিয়ন্ত্রন ক্ষমতার অভিলক্ষের সঙ্গে সংগতি রেখে ফেডারেল
ব্যবস্থা শাসনতন্ত্রে থাকবে।
৫. ফেডারেশনের অন্তর্গত অঙ্গরাষ্ট্রগুলির নিয়ন্ত্রনে প্রত্যেকটি ইউনিটের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পৃথক
হিসাবে রাখার শাসনতান্ত্রিক বিধান থাকবে । শাসনতন্ত্রে নির্ধরিত পদ্ধতি অনুযায়ী
ধার্য হারের ভিত্তিতে অঙ্গরাষ্ট্র গুলি ফেডারেল সরকারের প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার
চাহিদা মিটাবে। ফেডারেল সরকার কতৃক নির্ধারিত পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোর মধ্যে
থেকে আঞ্চলিক সরকারগুলিকে বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কে আলোচনা ও চুক্তির ক্ষমতা
শাসনতন্ত্রে দেয়া হবে।
৬. জাতীয় নিরাপত্তায় কার্যকরভাবে অংশ গ্রহনের জন্য
ফেডারেশনের অঙ্গরাষ্ট্র গুলিকে মিলিশিয়া বা প্যারা মিলিশিয়া রাখার ক্ষমতা দেয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আন্দোলন যখন ব্যপকতা লাভ করল,তখন আইয়ুব ও এহিয়ার
সামরিক দুঃশাসন পকিস্তানের ঘাড়ে সোয়ার ছিল। বিশেষ করে পুর্ব পাকিস্তানের উপর
খর্গহসÍ ছিল। এক পর্যায়ে সামরিক শাসক এহিয়া গনআন্দোলনের মূখে পরাজয় বরন
করলেন। যে আন্দোলন৬৯ সালে গনঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করল। বাধ্য হয়ে সামরিক জাস্তা নির্বাচন
দিতে রাজি হল। এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বায়ত্বশাসনের মন্ত্র বাঙ্গালীর প্রানের দাবীতে পরিনত
হল।বাঙ্গালী জাতীর ঐক্য বঙ্গবন্ধুকে প্রচন্ড শক্তি প্রধান করল। ১৯৭০এর জাতীয় নির্বাচনে
বাঙ্গালী তথা পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের ঐক্যবদ্ধ ভোট প্রধান এমন ভাবে বিজয় দিল যে
বঙ্গবন্ধুর একক সরকার গঠনের ব্যবস্থা করে দিল। ৭০ এর নির্বাচন বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের
প্রধান মন্ত্রীর স্বপ্ন দেখালো। গনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু যখন সরকার গঠন করার
অধিকার প্রাপ্ত হলেন, তখন পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো তাতে
বাঁধ সাধলেন এবং তিনি এত হিং¯্র হয়ে উঠলেন যে হুংকার ছেড়ে বললেন ,পশ্চিম
পাকিস্তান থেকে যদি কোন সাংসদ অধিবেশনে যোগদান করে তবে অধিবেশন কসাই
খানায় রুপান্তরিত হবে। এর প্রাতবাদে পুর্বপাকিস্তানের মানুষ আরো উত্তেজিত হয়ে উঠল। অবস্থাকে সামনে
রেখে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দান তথা সোহরাহ উদ্দিন উদ্যানে ৭ই মার্চ এক জনসভা
আহ্বান করেন। উক্ত সভায় পশ্চিমা শাসক গোষ্টীর ষড়যন্ত্র,টালবাহানা এবং দমন পীড়নের চিত্র
তুলে ধরে এক জ্বালাময়ী ভাষন প্রধান করলেন।যা বর্তমানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের
ঘোষনা বা ভাষণ বলে খ্যাত। উক্ত ভাষনের বিশেষ উদৃতাংশ হল-আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন
কেউ আমাদের দমাতে পারবেনা , রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে
ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার
সংগ্রাম।এ ভাষনে বাঙ্গালী জাতি আরো মুক্তি পাগল হয়ে উঠল।এর মধ্যে পশ্চিমা শাসক
গোষ্ঠির ষড়যন্ত্রও চলতে থাকল নানারূপে। বঙ্গবন্ধুর নিকট ক্ষমতা হস্থান্তরে টালবাহানার
মাধ্যমে সময় অতিক্রম করতে থাকল।তাদেও ষড়যন্ত্র যখন ষোলকলায় পরিপুর্ণ হল তখন দমননীতি
গ্রহন করল।পাকিস্তানী জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বে ২৫ শে মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র
বাঙ্গালীর উপর ন্বসস্ত্র হামলা হল। রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায় ই,পি,আর সদর দপ্তরে
ঘুমন্ত বাঙ্গালী জোয়ানদের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষন করল। রক্তের গঙ্গা বয়ে গেল
ঢাকায়। এ সময়ে বেঙ্গল রেজিমেন্ট, – ই,পি,আর ও পুলিশ বাহিনীর কিছু অফিসারকে
বাছাই করে গুম ও হত্যা করে পাক বাহিনী। পাক বাহিনীর নির্মমতা সারা বাংলায় ছড়িয়ে
পরে। ২৫শে মার্চের কালরাতের আঘাতে বাঙ্গালীর দৈর্য্য শেষ হয়ে গেল। তারাও অ¯্রহাতে
প্রতিবাদী হয়ে উঠল। বাংলার স্বাধীনতা আনুষ্টানিকভাবে ঘোষনা করা হল। এ ব্যপারে
বিভিন্ন বর্নণা রয়েছে , কোন বর্ণনা মতে চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে
মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষনার উল্লেখ রয়েছে ,যার রেকর্ড অনেকবার মানুষ
শুনেছে।তবে বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখিত বর্ণনা মতে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক
স্বাধীনতা ঘোষণার কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। স্বাধীনতা ঘোষনার সাথে সাথেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। বেঙ্গল
রেজিমেন্ট ই, পি, আর ও পুলিশ বাহিনীর পলাতক সসস্ত্র সদস্যগনই প্রথম বিচ্ছিন্ন
ভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। এক পর্যায়ে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বদ্যনাথ তলায় বসে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে
উপ-রাষ্ট্রপতি ও জনাব তাজউদ্দিন আহম্মদকে প্রধান মন্ত্রী করে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার
গঠন করা হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে কর্নেল এম,এ,জি
ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।এর পর
থেকে বাংলার যুবকেরা মুক্তিবাহিনীতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষন করে যুদ্ধে নামতে শুরু
করে।এতে মুক্তিবাহিনীর বলিষ্টতা বৃদ্ধি পায়।এক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর
যৌথ অভিযানে পাক সরকার কাবু হয়ে পরে । তারা বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পনে রাজি হয়।
আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে মিত্রবাহিনীর জগজিৎ সিং অরোরার নিকট পাক বাহিনীর
প্রধান জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করে আত্মসমর্পন দলিলে স্বাক্ষর করেন। এভাবেই
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বও মুক্তিযুদ্ধেও বিজয় অর্জিত হয়।
মুুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙ্গালীদের মধ্যেও কিছু বিভক্তি ঘটেছিল। কেহবা ইচ্ছা করে,
আর কেহ পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে অপারগ অবস্থায় পাক সরকারের সহযোগীতা
করেছিলেন।আবার কিছু রাজনৈতিক দল সচেতনভাবেও পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় পাক
সরকারের সহযোহীতা করেছেন। তাদের যুক্তি ছিল ভারতের প্ররোচনায় বিচ্ছিন্নতা
আন্দোলন হচ্ছে । একপর্যায়ে এ ভুখন্ড ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে যাবে। পাকিসস্তান থেকে
বেড়িয়ে এসে ভারতীয় গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হওয়ার আশংকা করল তারা।এলক্ষে
পাকবাহিনীর সহযোগীতার জন্য তাদের সহযোগী বাহিনী রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর
সদস্যপদ লাভ করেছিল । নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগন এলাকার শান্তি শৃংখলা রক্ষার জন্য শহর এলাকায়
শান্তি কমিটী গঠন করেছিল,কিন্তু পাকবাহিনীর নিকট এ সমস্ত কার্যক্রমের কোন
মূল্য ছিল না। তারা তাদের নাশকতা চালিয়ে গেছে তাদেও মত। অবশেষে পাকবাহিনীর
যাবতীয় অপকর্মের দায় শান্তি কমিটী ও তাদের সহযোগী বাহিনীর উপর চেপেছে। যারা
মুক্তিযুদ্ধে বিপক্ষে ছিলেন এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা চেয়েছিলেন তারা কি
পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মত যোগ্য ছিলেন?
বর্তমান দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ কলহ ও ভারতের কিছু বৈরী আচরনের প্রতি আঙ্গুল
উচিঁয়ে মুক্তিযুদ্ধের অপরিহায্যতাকে ম্লান করতে চান তাদের দুরদর্শীতাকে একটু
শানিত করে দেখুন – মুক্তিযুদ্ধ না হওয়ার এবং বাংলাদেশ স্বাধীন না হওয়ার গ্রহনযোগ্য
কোন যুক্তি আছে কি না। আর যারা বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যদি এতই প্রয়োজন
ছিল তবে তা আলোচনা বা আন্দোলন করেও হাসেল করা যেত । রাজনৈতিকভাবে দেশ স্বাধীন
হলে এত ক্ষয়-ক্ষতি হত না।আমি বলব তাদের যুক্তি খোঁড়া যুক্তি, ২৫শে মার্চের কালরাতের
ধ্বংসযজ্ঞ আলোচনার সকল রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল । তৈরী কওে দিয়ে ছিল সসস্ত্র মুক্তি
যুদ্ধের পথ।আর পরবর্তীতে পাক বাহিনীর জ্বালাও পুড়াও এবং অবর্ননীয় নির্যাতন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বলিষ্ঠ কওে তুলেছিল। এ ভাবেই
মুক্তিযুদ্ধকে অপরিহায্য কওে তুলেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিজয়ের
দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছিল। যে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের টানে এত দুরত্বেও দুইটি ভুখন্ড
মিলে এক রাষ্ট্র হয়েছিল কারা এর ঐক্যে কুঠারাঘাত করল যদি বৈষম্য ,বঞ্চনা ও দমননীতি
গ্রহন না করা হত তবে ভ্রাতৃত্বের বাঁধন হয়ত আরো কিছুকাল অটুট থাকত। আমি
মনে করি যা বাস্তব ছিল তাই বাস্তবায়িত হয়েছে।
এবার আসুন কিছু দেশের কথা বলি, যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য জীবন বাজি রেখে
মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিল সে লক্ষ্য অর্জনে আমরা এখনও কাঙ্খিত
লক্ষে পৌছতে, কিছু পিছিয়ে আছি বলে মনে হয়। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মূল দায়িত্ব
পালন করেছেন ।এবার দেশ গড়ার দায়িত্ব নেতৃবৃন্দের উপর । স্বাধীনতার সুফল জনগনের

নিকট পৌছানোর দায়িত্ব নেতাদের। যখন যারা দেশ পরিচালনা করেন তারাই জনগনের
শান্তি সমৃদ্ধি রক্ষায় দায়বদ্ধ। মানবাধিকার সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা,জাতীয় ইচ্ছা
আকাঙ্খা পুরন এং গনতন্ত্রের সঠিক চর্চা বহাল রাখার দায়- দায়িত্ব ক্ষমতা প্রাপ্ত সরকারের
উপরই বর্তায় । এই হিসাবে নিজের এবং দলীয় সংকির্ণতার উর্দ্ধে উঠে রাষ্ট্র ও জনগনের
স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য সচেষ্ট হওয়া সকলেরই
কর্তব্য। তবেই স্বাধীনতার সুফল সকলের নিকট পৌছবে।

লেখক: বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল বারিক , মোহনগঞ্জ,নেত্রকোনা।