বড়পরিসরে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা হচ্ছেনা, হাইয়াতুল উলয়ার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮

ব্যাপক পরিসরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংর্বধনা প্রদান থেকে পিছু হটলেন আলেমগন। কোন উন্মুক্ত স্থান বা সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমী মাদরাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
আজ রোববার ( ২১ অক্টোবর ) ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গাপ্রেসস্থ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-বেফাক কার্যালয়ে হাইয়াতুল উলয়ার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হাইয়াতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা ছাড়াও বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল হালীম, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার শাহ, মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি মাহমুদ, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা বাহাউদ্দীন নাসির, মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

কওমী মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন পাসে বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় হাইয়াতুল উলয়া। গত ১লা অক্টোবর এ উপলক্ষ্যে মাওলানা আশরাফ আলীকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।বেফাক সহসভাপতি মুফতী ওয়াক্কাস, মুফতি ফয়জুল্লাহ,মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা আনাস মাদানী, মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক প্রমুখ সংর্বধনা প্রস্তুতি কমিটিতে রয়েছেন।

জানাগেছে, চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে সংর্বধনার বিষয়ে সিদ্ধান্তের ঘোষণা মিডিয়ায় প্রকাশের পরে কওমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এনিয়ে কওমি ধারার আলেমদের মধ্যে বিভক্তির কথা ও শুনাযায় সোস্যাল মিডিয়ায়। ফলে আল্লামা শাহ আহমদ শফী একটি অনুষ্ঠানে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সংর্বধনা দেয়ার অর্থ এই নয় যে, আমি আওয়ামিলীগ হয়েগেছি। এছাড়া হেফাজত ও কওমী স্বীকৃতির বিষয়টিকে একাকার করে না দেখারও তিনি আহবান জানান।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, দেশের অধিকাংশ কওমি ধারার আলেমগন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি সংর্বধনা প্রদানের বিপক্ষে মতপ্রকাশ
করেছেন। তাদের মতে, হেফাজত ইস্যুতে কওমি ধারার আলেমদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা মাথায নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সংর্বধনা জানাতে পারিনা। আগে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক এবং হেফাজত ইস্যুতে সরকারের অনাকাংখিত মন্তব্য প্রত্যাহারের পরেই সংর্বধনা হোক! এমন সব কথায় অবশেষে ক্ষুদ্র পরিসরেই শুধুমাত্র দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা সমুহের
আগ্রহী মুহতামিমদের নিয়েই সংর্বধনার চিন্তা ভাবনা করছেন প্রস্তুতি কমিটি।
তবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কবে কোথায় হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলা জানা যায়।